সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বরাদ্দ কমেছে ৪৯ হাজার কোটি টাকা। রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ হ্রাস পাওয়ায় উন্নয়ন বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায়। যার মধ্যে ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগেই চলে যাবে প্রায় ৬৫ শতাংশ উন্নয়ন ব্যয়। টাকার অংকে যার পরিমাণ ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও অর্থবছরের শুরুতে এডিপি বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সংশোধিত বাজেটে পেয়েছে ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। যদিও অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ব্যয় করেছে বরাদ্দের মাত্র ৫ শতাংশ!
গতকাল শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপির অনুমোদন দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রমতে, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ১৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ। ১৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন বিভাগ। এর পরই ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রায় একই পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। একই পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় পেয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। সেতু ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পেয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা করে। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া এ ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পেয়েছে মোট উন্নয়ন বাজেটের ৬৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
বাজেট বাস্তবায়ন কম হওয়া নিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিচ্ছি। অনেক কাটছাঁট করা হচ্ছে।’